
নারীসহ আহত ৫
শিক্ষক সমাবেশে পুলিশের লাঠিপেটা জলকামান
- আপলোড সময় : ২৭-০১-২০২৫ ০১:০৯:৩০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-০১-২০২৫ ০১:০৯:৩০ অপরাহ্ন


* শিক্ষকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা জানাল হাসনাত আব্দুল্লাহ
* ড. ইউনূসের কাছে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের স্মারকলিপি প্রদান
রাজধানীর শাহবাগে জাতীয়করণের দাবিতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিক্ষোভ সমাবেশে লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। এতে নারীসহ পাঁচজন মাদ্রাসা শিক্ষক আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুর একটার দিকে আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। আহতরা হলেন, মাদ্রাসা শিক্ষক আনোয়ার হোসেন (৩৫), ফরিদুল ইসলাম (৩০), আমিনুল (৩৫), মিজানুর রহমান (৩৫) ও মারুফা আক্তার (২৫)। গতকাল রোববার দুপুর একটার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন মাদ্রাসা শিক্ষক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘গত আটদিন যাবত আমরা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করছিলাম। দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয়ার উদ্দেশে শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে আমরা প্রেস ক্লাব থেকে রওনা হয়েছিলাম। পরে শাহবাগে আমাদের মিছিলটি পৌঁছানো মাত্রই পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও লাঠিপেটা করে। এতে আমাদের নারী মাদ্রাসা শিক্ষকসহ ৩০-৪০ আহত হন। এদের মধ্যে পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। অন্যদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটি ছিল আমাদের ন্যায্য দাবি। আমরা গত ১৯ জানুয়ারি থেকে এ দাবি আদায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট করে আসছিলাম। আজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে গেলে পুলিশ আমাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালায়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, দুপুরে নারীসহ পাঁচ মাদ্রাসা শিক্ষককে আহত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়েছি। এরপর জাতীয়করণের দাবিতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গেছেন। ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি বিকেল চারটার পর সেখানে যান বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। পুলিশের ভ্যানে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন বিকেলে শিক্ষকদের ডাকা হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যান।
জানা গেছে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণের দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন শিক্ষকরা। এদিন দুপুরে তারা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে জাতীয় জাদুঘরের সামনে দেয়া পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে আগাতে চাইলে তাদের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, শিক্ষকরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়।
শিক্ষকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় হাসনাতের নিন্দা: জাতীয়করণের দাবিতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিক্ষোভ সমাবেশে লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। গতকাল রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ নিন্দা জানান তিনি। পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ইবতেদায়ি শিক্ষকসহ বাংলাদেশে সামগ্রিক শিক্ষকসমাজ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। ইবতেদায়ি শিক্ষকদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের নিন্দা জানাই। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর আগে গতকাল রোববার দুপুর একটার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে জলকামান নিক্ষেপ করলেও রাস্তা থেকে সরে যাননি শিক্ষকরা। এতে কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন।
ড. ইউনূসের কাছে শিক্ষকদের স্মারকলিপি প্রদান: স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। গতকাল রোববার প্রদান করা স্মারকলিপিতে ঐক্য জোটের নেতারা তাদের ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। স্মারকলিপিতে শিক্ষক ঐক্য জোট নেতারা উল্লেখ করেছেন, বৈষম্যের স্বীকার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা। তাই ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার (প্রধান উপদেষ্টা) হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তাদের প্রস্তাবিত দাবিগুলো হলো-এক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক স্টাডি রিপোর্টের সুপারিশের আলোকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় আত্মীয়করণের ঘোষণা করা। ২. স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রেজিট্রেশন স্থগিত আদেশ ২০০৮ প্রত্যাহার করা। ৩. রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত কোড বিহীন মাদ্রাসাগুলো মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক কোড নম্বরে অন্তর্ভুক্তকরণ। ৪. স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা আলাদা নীতিমালা, পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি, বেতন-ভাতা, নীতিমালা-২০২৫ অনুমোদন করা। ৫. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় অফিস সহায়ক নিয়োগের ব্যবস্থা করা। ৬. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি খোলা অনুমোদনের ব্যবস্থা করা। আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, ১৯৮৪ ইং সনে ৭৮ অর্ডিনেন্স ১৭ এর ২ ধারা মোতাবেক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্বীকৃতি লাভ করে। তৎসময় থেকে শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এনসিটিবি কর্তৃক পাঠ্য-পুস্তক দ্বারা শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করানো হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের যোগ্যতা সমমান। ১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে পাঁচশ’ টাকা ভাতা প্রাপ্ত হন তারা। তৎসময় থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। সমমানের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শুধুমাত্র ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসা পাঁচশ’ টাকায় অনুদানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাকি মাদ্রাসাগুলো অনুদান থেকেও বঞ্চিত করা হয়। বর্তমানে ১ হাজার ৫১৯টি অনুদানভুক্ত মাদ্রাসা প্রধান শিক্ষক তিন হাজার ৫০০ টাকা ও সহকারী শিক্ষক তিন হাজার ৩০০ টাকা অনুদান পায়। ৪০ বছর অনুদানভুক্ত ও অনুদান বিহীন মাদ্রাসা শিক্ষকরা বিনা বেতনে শিক্ষকতা পেশায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণের ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ